ফ্ল্যাটে যুবকের লাশ, আর বেরিয়ে গেছে নারীসহ ৫ জন!

2017-12-11 অপরাধ

রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ ফ্ল্যাটে মনজিল হক নামের (৩০) এক যুবককে হত্যার পর নারীসহ পাঁচজনকে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদের এক নারীকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।

বি-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলায় থাকতেন মনজিল। ফ্ল্যাটের ভেতরেই রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়েছিল। গলা কেটে তাঁকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী মো. হারুন মিয়া বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে আমি ডিউটি শেষ করে বাসায় চলে গেছিলাম। তখন ডিউটিতে ছিল সিয়াম। দুপুর ১২টার দিকে আমাকে ফোন করে কয়, বাসায় খুন হইছে জলদি আয়েন। আসার পরে সিয়াম আমারে জানায় মঞ্জিল স্যার খুন হইছে।’

সিয়ামের বরাত দিয়ে হারুণ আরো বলেন, ‘চারজন লোক আর একটি সুন্দরী মাইয়া আইছিল মনজিল স্যারের বাসায়। কিছুক্ষণ পরে ওই চারজন লোক আমার চোখের সামনে দিয়েই বাহির হইয়া যায়। এর পরে দেখি মাইয়াটা চিল্লাইতে চিল্লাইতে নিচে নাইম্যা বলছে, মনজিলরে মেরে ফেলছে, মেরে ফেলছে কেউ বাঁচান। এই কথা শুনে আমি দৌড়ে ওপরে গিয়ে দেখি ঘরের মধ্যে রক্ত। গলা কাটা অবস্থায় মনজিল স্যার পড়ে আছে। এর পরে আমি দৌড়ে আবার নিচে আইস্যা দেখি মেয়েটাও নাই।’

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ওই মনজিলের এলাকায় তাঁর একটি গ্যারেজ রয়েছে। নিজের ফ্ল্যাট থেকে গলাকাটা অবস্থায় মনিজলের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর বিকেল ৫টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই ফ্লাটে একাই থাকতেন মনজিল। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়। সকালে এক মেয়ে ও চার যুবক তাঁর ফ্ল্যাটে এসেছিল। তারা বেরিয়ে যাওয়ার পরই মনজিলের গলা কাটা লাশ দেখতে পায় বাসার নিরাপত্তা প্রহরী। এখনো কাউকেই আটক করা হয়নি, তদন্ত চলেছে। আর তদন্তের পরেই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানান ওসি।

মা-বাবার পরে মনজিলও চলে গেল

নিহত মঞ্জিলের সৎমা লিপি আক্তার এনটিভি অনলাইনকে জানান, মনজিল তাঁর খালাতো বোনের ছেলে। তাঁর বয়স যখন চার, তখন ওর মা আগুনে পুড়ে মারা যায়। এরপর পারিবারিকভাবেই মনজিলের বাবা মইনুল হকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এখন তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মনজিল তাঁদের সঙ্গে থাকতেন বনশ্রীতে। সাত মাস আগে মঞ্জিলের বাবা মইনুল হক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার আগে বনশ্রী ও আফতাবনগরে দুটি ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন। একটি ফ্লাটে মনজিলের সৎমা, ভাইবোন থাকেন। আর একটি ফ্ল্যাট মনজিলকে দেওয়া হয়েছিল পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। আফতাবনগরের সেই ফ্লাটে মনজিল একাই থাকতেন। দুপরে এই বাড়ির মালিক তাঁকে ফোন করে জানান যে মনজিল মারা গেছেন। এরপর খবর পেয়ে তাঁরা চলে এসেছেন। ছোটবেলায় তাঁর মারা মারা গেছেন। কিছু দিন আগে বাবাও মারা গেছেন। আর আজ মঞ্জিলও চলে গেলেন।

বাসার সামনে ভিড় করে থাকা মনিজলের কয়েকজন বন্ধু এনটিভি অনলাইনকে জানান, মনজিল বছর পাঁচেক আগে একটা বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরেই তাঁদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। এর পর থেকে মনজিল একাই ছিলেন। বন্ধু হিসেবে তিনি অনেক ভালো ছিলেন। কোনো বন্ধুর বিপদে তিনি সবার আগে এসে হাজির হতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর নাম শারমিন আক্তার ওরফে নিশি।

রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ ফ্ল্যাটে মনজিল হক নামের (৩০) এক যুবককে হত্যার পর নারীসহ পাঁচজনকে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদের এক নারীকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।



Similar Post You May Like