শরীয়তপুরে ৬ নারীকে ‘ধর্ষণ’: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

2017-12-26 অপরাধ

 

ছয় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা আরিফ গ্রেফতার

 

 

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার বিকালে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সাইক্কা ব্রিজ এলাকা জয়ন্তিকা নদী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক  আরিফ হোসেন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরিফ ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান আরও জানান,বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

আরিফ হাওলাদার গোপন ক্যামেরায় অশ্লীল ভিডিও ধারণ করার পর ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রী ও গৃহবধূসহ ছয় নারীকে ধর্ষণ করে। সেই অভিযোগে মামলা হয়েছে আরিফের বিরুদ্ধে।মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, আরিফ হোসেন বিভিন্ন সময় ফাঁদে ফেলে ছয় নারীকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ওই ভিডিও ধারণ করেন এবং তা গোপনে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। গত ১৫ অক্টোবর ধর্ষণের ভিডিওগুলো গ্রামের মানুষের মোবাইল ফোনে দেখা যায়। পরবর্তীতে ভিডিওগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিনি তাদের বারবার ধর্ষণ করেন। এ ছয় জনের মধ্যে এক গৃহবধূর নগ্ন ছবি ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবকের আইডি থেকে প্রথমে ছয় নারীর সঙ্গে আরিফের আপত্তিকর ছবি ছড়ানো পাশাপাশি ওই দিন রাত ৮ট ৪০ মিনিটে এবং ৮টা ৪২ মিনিটে রাজিব মাদবরের আইডি থেকে আরও দুইটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

 

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক নারী বাদী হয়ে ১১ নভেম্বর আরিফ হাওলাদারের বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ভেদরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ১১ নভেম্বর আরিফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। মামলায় ধর্ষণের শিকার এক নারী বলেন, “অবশেষে লম্পট আরিফ হোসেন হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় আমরা ভুক্তভোগীরা স্বস্তি পেয়েছি। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।”

ভেদরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মো: মোহসীন মাদবর বলেন, “আরিফকে অনেক আগেই দল থেকে  বহিষ্কার করা হয়েছে। সে আমাদের সংগঠনের কেউ নয়। আমরা সকলেই তার অপরাধের শাস্তি চাই।”

 



Similar Post You May Like